এশিয়ার সামরিক শক্তিতে ১৮তম বাংলাদেশ, বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে অবস্থান ৩৭

গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ার (GFP) প্রকাশিত ‘এশিয়ান মিলিটারি স্ট্রেন্থ, ২০২৬’ শীর্ষক সাম্প্রতিক রিপোর্টে এশিয়ার ৪৫টি দেশের মধ্যে সামরিক সক্ষমতায় ১৮তম স্থান অধিকার করেছে বাংলাদেশ। সামরিক বাজেট, সৈন্য সংখ্যা, নৌবহর ও বিমানবাহিনীর সক্ষমতাসহ ৬০টি আলাদা বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা এই তালিকায় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শক্ত অবস্থানে রয়েছে ঢাকা। তবে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে গত বছরের তুলনায় বাংলাদেশের কিছুটা অবনমন লক্ষ্য করা গেছে; ২০২৫ সালে বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ৩৫তম অবস্থানে থাকলেও ২০২৬ সালের তালিকায় বাংলাদেশ ৩৭তম স্থানে নেমে এসেছে।
রিপোর্টে দেখা গেছে, দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের একাধিপত্য বজায় থাকলেও পাকিস্তানের শক্তি ধারাবাহিকভাবে কমছে। গত বছর বিশ্ব তালিকায় ১২ নম্বরে থাকলেও এবার ১৪ নম্বরে নেমে গেছে ইসলামাবাদ। অন্যদিকে, বাংলাদেশের নিকটতম প্রতিবেশী মিয়ানমার এশীয় তালিকায় ১৭ নম্বরে থেকে বাংলাদেশের ঠিক ওপরে অবস্থান করছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ‘ফোর্সেস গোল ২০৩০’-এর আওতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর আধুনিকায়ন অব্যাহত রাখলেও বিশ্বজুড়ে অন্যান্য দেশের প্রতিরক্ষা ব্যয় ও প্রযুক্তির প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের বৈশ্বিক র্যাঙ্কিংয়ে এই সামান্য পরিবর্তন এসেছে।
প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনামূলক চিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, এশীয় র্যাঙ্কিংয়ে শ্রীলঙ্কা ২৬, আফগানিস্তান ৪২, নেপাল ৪৩ এবং ভুটান ৪৫তম অবস্থানে রয়েছে। ভারতের সামরিক শক্তি এই অঞ্চলে অপ্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ৩ নম্বরে অবস্থান করছে। উল্লেখ্য যে, এই ইনডেক্সে যে দেশ শূন্যের (০.০০০০) যত কাছে নম্বর পায়, তাদের সামরিক শক্তি তত উন্নত বলে ধরা হয়। এই মানদণ্ডে ভারত ০.১৩৪৬ পয়েন্ট পেলেও বাংলাদেশ তার চেয়ে কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ তার নৌবাহিনীতে সাবমেরিন ও আধুনিক রণতরী সংযোজন এবং বিমানবাহিনীর শক্তিবৃদ্ধি করলেও গবেষণা ও উন্নয়নের (R&D) ক্ষেত্রে ভারত বা চিনের তুলনায় বরাদ্দ অনেক কম। বিশেষ করে ২০২৬-’২৭ অর্থবর্ষে ভারত তাদের জিডিপির ১১ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করায় আঞ্চলিক শক্তিসাম্যে তারা অনেক এগিয়ে গেছে। তবে দক্ষিণ এশিয়ায় পাকিস্তান ও মিয়ানমারের পর সামরিক শক্তির বিচারে বাংলাদেশ এখনও একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে।

















