এপ্রিলের ১৯ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে দুই বিলিয়ন ডলারের বেশি

চলতি এপ্রিল মাসে প্রবাসী আয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য বলছে, চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম ১৯ দিনেই দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২ দশমিক ১২৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় যা প্রায় ২৩ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি।
সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, শুধু ১৯ এপ্রিল একদিনেই দেশে এসেছে ১৫৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। ধারাবাহিক এই প্রবাহ এপ্রিল মাসের সামগ্রিক রেমিট্যান্স চিত্রকে আরও শক্তিশালী করেছে।
গত বছরের একই সময়ে দেশে এসেছিল ১ দশমিক ৭১৯ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স। সেই তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
চলতি এপ্রিল মাসের ১ থেকে ১৯ তারিখ পর্যন্ত রেমিট্যান্স প্রবাহে ২৩ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি রেকর্ড করা হয়েছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এটি সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে অন্যতম ইতিবাচক সিগন্যাল।
শুধু মাসিক ভিত্তিতেই নয়, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স প্রবাহও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এই সময়ে দেশে এসেছে ২৮ দশমিক ৩৩৬ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স। গত অর্থবছরের একই সময়ে (জুলাই ২০২৪ থেকে ১৯ এপ্রিল ২০২৫) এই অঙ্ক ছিল ২৩ দশমিক ৫০৪ বিলিয়ন ডলার।
ফলে চলতি অর্থবছরে এখনও পর্যন্ত রেমিট্যান্স প্রবাহে প্রায় ২০ দশমিক ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, রেমিট্যান্স প্রবাহের এই ধারাবাহিক বৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করছে। পাশাপাশি ডলার বাজারে চাপ কমাতেও ভূমিকা রাখছে।
তাদের মতে, প্রবাসীদের বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বৃদ্ধি, হুন্ডি কার্যক্রমে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ এবং প্রণোদনা নীতির প্রভাবেই রেমিট্যান্স প্রবাহে এই ইতিবাচক গতি দেখা যাচ্ছে।
বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার বাজার, আমদানি ব্যয় এবং মূল্যস্ফীতির চাপের মধ্যে রেমিট্যান্স প্রবাহ অর্থনীতির অন্যতম প্রধান স্থিতিশীলতার উৎস হিসেবে কাজ করছে। বিশেষ করে চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির এই ধারা অব্যাহত থাকলে সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্বস্তির একটি ভিত্তি তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।

















