ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে ইরানের ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। শুক্রবার সকালে জারজির শহরে চালানো হামলায় কমপক্ষে ৫৮ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির জরুরি সেবাদাতা সংস্থা ম্যাগেন ডেভিড আদম।
ইসরায়েলি গণমাধ্যম জেরুসালেম পোস্টের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, হামলায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার হয়েছে। ১৪ দিনের সংঘাতে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চল তিন দফা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হলো।
ইসরায়েলের অগ্নিকাণ্ড ও উদ্ধার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সকালে হামলার খবর পেয়ে নফ গ্যালিলি ফায়ার স্টেশন থেকে দমকল বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান।
কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, মোট চারটি বাড়িতে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। একটি বাড়িতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বেশ কয়েকটি গাড়িও হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
হামলার জেরে পার্শ্ববর্তী বাড়িতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। সেখান থেকে খোলা মাঠেও পরবর্তীতে আগুনের শিখা ছড়ায়।
এমডিএ জানিয়েছে, আহতদের নিকটবর্তী হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এমডিএর চিকিৎসাকর্মী এরান আবো বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখি বেশ কয়েকটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেগুলোর কাঁচ ভেঙে যায়।’
আফুলা শহরের ইমেক মেডিকেল সেন্টার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই হামলায় আহত ৩০ ব্যক্তি সেখানে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৫ জন শিশু ও ১৫ জন প্রাপ্তবয়স্ক।
হাইফা শহরের রামবাম হেলথ কেয়ার ক্যাম্পাসে ১২ শিশুসহ মোট ২৮ জন ভর্তি হয়েছেন।
হামলার তাণ্ডবে উদ্বেগ ও মানসিক চাপে ভেঙে পড়েন ১৫ ইসরায়েলি নাগরিক। চিকিৎসাকর্মীরা তাদেরকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যান।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী শুক্রবার সকালে জানিয়েছে, জরুরি সেবাদাতাদের পাশাপাশি নিয়মিত ও রিজার্ভ বাহিনীর সেনারা ঘটনাস্থলে কাজ করছেন।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, এই হামলা নিয়ে তদন্ত ও নিরীক্ষা চলছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাঝে তাড়াহুড়া করে ভূগর্ভস্থ আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার চেষ্টা করে ইসরায়েলিরা। এ সময় দ্রুতগামী এক গাড়ির ধাক্কায় নিহত হন ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরী।

















