ইরানের কাছ থেকে বিশেষ প্রস্তাব পাচ্ছেন ট্রাম্প, বৈঠকে বসছে ইসলামাবাদে

যুক্তরাষ্ট্রের দাবিগুলো পূরণের লক্ষ্য নিয়ে ইরান একটি নতুন প্রস্তাব দিতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন। ট্রাম্প জানান, তেহরান আলোচনার টেবিলে একটি প্রস্তাব রাখছে, তবে এর বিষয়বস্তু সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
মুঠোফোনে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “তারা (ইরান) একটি প্রস্তাব দিচ্ছে, এখন দেখতে হবে সেটি কী হয়।” তেহরানের পক্ষ থেকে কার সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে—এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে তিনি বলেন, “আমি নির্দিষ্ট কারও নাম বলতে চাই না, তবে আমরা এখন ইরানে যারা দায়িত্বশীল পর্যায়ে আছেন তাদের সঙ্গেই কথা বলছি।”
দীর্ঘদিনের বৈরিতা কাটিয়ে সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে আবারও পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে বৈঠকে বসতে যাচ্ছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারকে এই আলোচনায় অংশ নিতে ইসলামাবাদে পাঠানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। তারা শনিবার সকালেই পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন।
এদিকে, শুক্রবার রাতেই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরগচির নেতৃত্বে একটি উচ্চপ্রতিনিধি দল পাকিস্তানে পৌঁছেছেন। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানি প্রতিনিধিরা পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরসহ দেশটির জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হবেন।
বৈঠকে আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার পাশাপাশি ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার মধ্যস্থতা নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ইরানের এই নমনীয় অবস্থান এবং ইসলামাবাদের মধ্যস্থতা বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন কোনো সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

















