ইটভাটা শ্রমিকের হাত বেঁধে ঝুলিয়ে পেটালেন ইসমাইল মাঝি

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে পাওনা টাকা ও কাজের বিরোধের জেরে কালু মিয়া (৩৮) নামে এক ইটভাটা শ্রমিককে হাত বেঁধে ঝুলিয়ে অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ইটভাটা সর্দার ইসমাইল হোসেন মাঝি ওই শ্রমিককে দোকানঘরের আড়ার সঙ্গে বেঁধে লাঠি দিয়ে পিটিয়েছেন। নির্যাতনের সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়নের চরবসু বাদামতলী এলাকার বাসিন্দা কালু মিয়া ইসমাইল মাঝির মাধ্যমে ৮০ হাজার টাকা অগ্রিম নিয়ে চট্টগ্রামের একটি ইটভাটায় কাজ করতে যান। সম্প্রতি অসুস্থ হয়ে পড়ায় কাজ অসমাপ্ত রেখেই তিনি বাড়ি ফিরে আসেন এবং উপজেলার তোরাবগঞ্জ ইউনিয়নে শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করছিলেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে সেখান থেকেই ইসমাইল মাঝি ও তাঁর লোকজন কালুকে তুলে নিয়ে মৌলভীরহাট স্লুইসগেট এলাকায় একটি দোকানে আটকে রাখে।
ভাইরাল হওয়া ৬ মিনিট ১৩ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, কালু মিয়ার দুই হাত রশি দিয়ে দোকানঘরের আড়ার সঙ্গে ওপরের দিকে ঝুলিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। ইসমাইল মাঝি লাঠি হাতে তাঁকে এলোপাতাড়ি পেটাচ্ছেন এবং অকথ্য ভাষায় গালাগালি করছেন। ভিডিওতে ইসমাইলকে বলতে শোনা যায়, “ইসমাইল মাঝি কারো জন্য মামলা করে না, কারো সালিশ মানে না। নিজের বিচার নিজে করে।” নির্যাতনের একপর্যায়ে কালুকে দিয়ে জোরপূর্বক বলানো হয় যে, তিনি আর কখনো এমন করবেন না এবং মাঝির ক্ষতিপূরণ দিয়ে দেবেন।
নির্যাতনের শিকার কালু মিয়া জানান, মারধরের পর তাঁর পরিবারের কাছে এক লাখ টাকা দাবি করা হয় এবং সাদা কাগজে মুচলেকা রেখে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর শুক্রবার রাতে কমলনগর থানা পুলিশ কালুকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।
কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল আলম বলেন, “ভিডিওটি আমাদের নজরে আসার পরপরই ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযুক্ত ইসমাইল মাঝিকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একাধিক টিম অভিযান চালাচ্ছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।”

















