আমি আল্লাহর কাছে মর্যাদা চেয়েছি, তিনি আমাকে লজ্জিত করেননি: ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন (সরাইল ও আশুগঞ্জ) থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়ে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। হাঁস প্রতীকে ৫০ হাজার ৫৭৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হওয়া রুমিন এবারই প্রথম সরাসরি ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে সংসদে যোগ দিলেন। সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বিএনপি থেকে বহিষ্কার, নির্বাচনের লড়াই এবং সংসদ নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা খোলামেলা তুলে ধরেন।
সাক্ষাৎকারে বিএনপি থেকে মনোনয়ন না পাওয়া এবং পরবর্তীতে বহিষ্কারের বিষয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, “আমি বিএনপির কাছে ভীষণভাবে কৃতজ্ঞ যে দলটি আমাকে মনোনয়ন দেয়নি। না দেওয়ার ফলে আমি আপামর মানুষের দোয়ার অংশ হয়ে গিয়েছিলাম।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমি আল্লাহর কাছে মর্যাদা চেয়েছি, তিনি আমাকে লজ্জিত করেননি। পুরো নির্বাচনের সময় আমি অনবরত দোয়া ও দরুদ পড়েছি।” নিজের জয়কে ‘আল্লাহর দান’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষের ভালোবাসাই তাকে এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুদিনেই নিজের বহিষ্কারের খবর পাওয়ার স্মৃতি চারণ করে রুমিন বলেন, “দেশনেত্রী খালেদা জিয়া মারা যাওয়ার দিন বিকেলেই আমি নিউজপেপারে দেখলাম যে আমি বহিষ্কৃত। রাষ্ট্রীয় শোকের মধ্যেও তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।” ১৭ বছর দলটির হয়ে রাজপথ ও সংসদে লড়াকু ভূমিকা রাখার পরও কেন তাকে বহিষ্কার করা হলো, সে প্রশ্নের উত্তরে তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, “প্রধানমন্ত্রী অনেক ওয়াইজ অ্যাক্ট করছেন। তিনিই বলতে পারবেন আমি কেন বহিষ্কৃত।”
নতুন সংসদ সম্পর্কে নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে এই সংসদ সদস্য বলেন, এবারের সংসদে আওয়ামী লীগ ও বাম দলগুলোর মতো বড় অংশ অংশ নেয়নি। তিনি মনে করেন, “দেশের অন্তত এক-তৃতীয়াংশ মানুষকে বাইরে রেখে এই সংসদ গঠিত হয়েছে।” সংসদে অনেক নতুন মুখ আসায় সবকিছু খাপ খাইয়ে নিতে কিছুটা সময় লাগবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একাদশ সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির প্রতিনিধিত্ব করে আলোচনায় আসা রুমিন ফারহানা এবার স্বতন্ত্র হিসেবে নিজের আসন গেড়ে নিলেন ত্রয়োদশ সংসদে।

















