আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে আমাকে আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছে: রাষ্ট্রপতি

সাবেক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের এক বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে বিগত সরকারের সময় তাকে ‘একঘরে’ করে রাখার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। একটি বেসরকারি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছেন, পরিকল্পিতভাবে তাকে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ অঙ্গন থেকে আড়ালে রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল। তার মতে, তাকে বিদেশ সফরে যেতে না দেওয়ার মূল উদ্দেশ্য ছিল আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তার নাম ও পরিচয়কে পৌঁছাতে না দেওয়া। অন্তত দুটি দেশের আমন্ত্রণের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, কসোভো এবং কাতারের মতো দেশ থেকে সরাসরি আমন্ত্রণ থাকলেও তাকে সেখানে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি।
বিশেষ করে কাতারের আমিরের আমন্ত্রণের বিষয়ে তিনি বিস্তারিত তথ্য প্রদান করেন। রাষ্ট্রপতি জানান, কাতারের একটি সামিটে তার ভাষণ দেওয়ার কথা ছিল যেখানে রাষ্ট্রপ্রধান ছাড়া অন্য কারও অংশগ্রহণের সুযোগ ছিল না। কিন্তু পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তাকে একটি আগেভাগে তৈরি করা খসড়া চিঠিতে সই করতে চাপ দেওয়া হয়। ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, রাষ্ট্রীয় কাজে অত্যন্ত ব্যস্ত থাকায় তিনি সামিটে অংশ নিতে পারছেন না। রাষ্ট্রপতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমন্ত্রণ আসার বিষয়টি তিনি আগে জানতেনই না; বরং মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো ওই ‘দুঃখ প্রকাশ’ সংক্রান্ত চিঠির মাধ্যমেই তিনি প্রথম জানতে পারেন যে কাতার থেকে এমন একটি আমন্ত্রণ এসেছিল।
সাক্ষাৎকারে তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাকে শুধু বিদেশ সফরই নয়, দেশের ভেতরের রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ড থেকেও দূরে রাখা হয়েছিল। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতির উপস্থিত থাকার দীর্ঘদিনের যে রাষ্ট্রীয় রেওয়াজ রয়েছে, সেটিও পরিকল্পিতভাবে আটকে দেওয়া হতো। রাষ্ট্রপতির দাবি, তৎকালীন সরকার চায়নি কোথাও তার নাম উচ্চারিত হোক বা জনগণ তাকে সক্রিয় রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে চিনুক। মূলত তাকে একটি নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতেই এই কৌশল অবলম্বন করা হয়েছিল বলে তিনি মনে করেন।

















