‘আগে মণিপুর সামলান মোটাভাই, লড়াই করতে হলে সামনাসামনি করো’

নির্বাচনী জনসভা থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শাহকে ‘মোটাভাই’ সম্বোধন করে তিনি সাফ জানালেন, এজেন্সির ভয় দেখিয়ে ফোন করে লাভ নেই।
মালদহের সভা থেকে মমতা বলেন, ‘‘আগে মণিপুর সামলান মোটাভাই। এজেন্সি আছে সঙ্গে, তাই খুব মজায় আছেন। ফোন করে করে লোকজনকে ভয় দেখান। কাজই হলো ফোন করে ভয় দেখানো। আমাকেও এক দিন করেছিল, ভালো করে গুঁতিয়ে দিয়েছি।’’
এ দিন সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও রেয়াত করেননি মমতা। প্রধানমন্ত্রীকে এক মঞ্চে তর্কের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘উনি আগে থেকে বক্তৃতা লিখে রাখেন। টেলিপম্পটার ছাড়া একটা কথাও বলতে পারেন না। বিজেপিকে বেলাইন করার জন্য আমরা এ বার ভোটের লাইনে দাঁড়াব।’’ পাশাপাশি, ভোটার তালিকায় অনুপ্রবেশকারী ইস্যু নিয়ে মোদীর পদত্যাগও দাবি করেন তিনি।
সাধারণ মানুষকে আর্থিক প্রতারণা থেকে সাবধান করে মমতা বলেন, ‘‘রাজ্য সরকারের নাম করে কেউ অ্যাকাউন্ট নম্বর চাইলে দেবেন না। সব কেড়ে নেবে। ওটা বিজেপি ছদ্মবেশে করছে।’’ বাইরে কাজ করতে যাওয়ার বিষয়েও ঘরের ছেলেমেয়েদের সতর্ক থাকার অনুরোধ জানান তিনি।
মমতার অভিযোগ, আসাদউদ্দিন ওয়েইসির দল হায়দরাবাদ থেকে এসে নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের ভোট কাটতে চাইছে। নাম না করে ওয়েইসি ও বিজেপিকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, ‘‘হায়দরাবাদ থেকে আসছে ভাই, সঙ্গে আছে গদ্দার ভাই। ভোট কাটার খেলা চলছে। কাকের ঘরে কোকিল জন্মায়। আম বা আমসত্ত্ব দিয়ে দেবেন, কিন্তু ভোট দেবেন না।’’
এ দিন বক্তৃতার মাঝেই শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের নাম উচ্চারণে সামান্য ভুল করেছিলেন মমতা। তবে তড়িঘড়ি ভুল সংশোধন করে ক্ষমা চেয়ে নেন তিনি। শেষে কর্মীদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, ‘‘আমি নিজেও মাটির কর্মী। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে এক পয়সা মাইনে নিই না। অহঙ্কার চলে এলেই মানুষের মধ্যে দুর্বলতা জন্ম নেয়।’’ সভার শেষে আদিবাসী শিল্পীদের সঙ্গে নাচের ছন্দে পা মেলাতেও দেখা যায় তাঁকে।

















